অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন ছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের। সেই অপেক্ষার অবসান হলো ডারউইনে। ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
নাজমুল হোসেন শান্ত চেয়েছিলেন, ডারউইনে তাঁর দলের খেলোয়াড়েরা পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলবেন। বাংলাদেশ সেই প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেল। মাত্র চার দিনেই, ১১তম সেশনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে, আর বাংলাদেশ নবম। এর ওপর অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে ছিলেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো তারকারা। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় নিঃসন্দেহে দেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
প্রথম দিনেই জয়ের ভিত
১৩ আগস্ট ম্যাচের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। দুই সেশনেরও বেশি সময় ধরে চলে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট। শেষ পর্যন্ত ২০০ রানও করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশও ব্যাট হাতে পাল্টা জবাব দেয়। তানজিদ হাসান তামিম করেন ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতক এবং টেলএন্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে পায় বড় লিড।
২২৮ রানের সেই লিড বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে পাওয়া সর্বোচ্চ লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়া চাপে
বড় লিডের চাপ নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ আবারও শুরুতে জোড়া আঘাত করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ক্যামেরন গ্রিন। দেশের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে দলকে লিড এনে দেন তিনি। তবে বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার লিড বড় হয়নি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
৫৭ রানেই ইতিহাস
৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম এবার শূন্য রানে আউট হন।
এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটিতে মাত্র ১৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল হক। তিনি ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। সাদমান ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ২৫ রানে। ১ উইকেটে ৫৭ রান করে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করার স্মৃতি অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও মূল ম্যাচে তার কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না।
ম্যাচসেরা হাসান মাহমুদ
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক হয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতক বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর আবার টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশের সামনে প্রত্যাশা ছিল ভালো লড়াই করার। সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে এবার অস্ট্রেলিয়াকেই তাদের মাটিতে গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। ডারউইনের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!