যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার ২ ভাদ্র ১৪৩৩

মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর রাখার ৫ উপায়

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৬ AM

২১
মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর রাখার ৫ উপায়

বাড়ন্ত বয়সে সন্তান ও মা-বাবার সম্পর্ক কিছুটা জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফোন ব্যবহার, পড়াশোনা, বন্ধুবান্ধব, পোশাক কিংবা বাইরে যাওয়া—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বা তর্ক হতে পারে। এ সময় কিশোর-কিশোরীদের কাছে নিজের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও মা-বাবার উদ্বেগও স্বাভাবিক।

তবে মতের অমিল থাকলেই সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে, এমন নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুন্দর রাখা সম্ভব।

নিয়মিত কথা বলুন

প্রতিটি কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে হতে হবে, এমন নয়। দিনের নানা ঘটনা, স্কুলে ঘটে যাওয়া মজার কোনো বিষয় কিংবা পছন্দের টিভি অনুষ্ঠান নিয়েও মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

দৈনন্দিন বিষয় নিয়ে কথা বলার অভ্যাস থাকলে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে মা-বাবার কাছে নিজের কথা বলাও সহজ হয়। এতে তাঁদের সঙ্গেও তৈরি হয় সহজ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ।

স্পেস দরকার হলে জানিয়ে দিন

বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের জন্য কিছুটা ব্যক্তিগত সময় বা প্রাইভেসি চাওয়া স্বাভাবিক। তবে হঠাৎ করে মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তাঁরা উদ্বিগ্ন হতে পারেন।

তাই দূরে সরে যাওয়া বা কথা বলতে অস্বীকার করার পরিবর্তে তাঁদের জানাতে পারেন যে আপনার কিছুটা একা সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন—এ কথাটিও জানিয়ে দিন। এতে তাঁরা বুঝতে পারবেন, আপনি তাঁদের এড়িয়ে যাচ্ছেন না; শুধু কিছুটা ব্যক্তিগত সময় চাইছেন।

তাঁদের কথাও শুনুন

‘মা-বাবা আমাকে বোঝেন না’—এমন মনে হওয়া স্বাভাবিক। তবে কোনো বিষয়ে তর্কে জড়ানোর আগে তাঁরা কেন আপত্তি করছেন, তা জানার চেষ্টা করা ভালো।

তাঁদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আপনি একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু তাঁদের উদ্বেগের কারণ বুঝতে পারলে বিষয়টি নিয়ে আরও ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে মতের অমিলও সহজে সামলানো যায়।

কথা বলার সঠিক সময় বেছে নিন

রাগের সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। এতে সামান্য মতবিরোধও বড় ধরনের ঝগড়ায় রূপ নিতে পারে।

ঘুমের সময়, বন্ধুত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিয়ম কিংবা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে শান্ত সময় বেছে নিন। দুজনেই যখন স্বাভাবিক ও শান্ত মেজাজে থাকবেন, তখন আলোচনা করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ভুল হলে সৎ থাকুন

জীবনের প্রতিটি ঘটনা মা-বাবাকে জানানো প্রয়োজন নেই। তবে কোনো ভুল লুকিয়ে রাখলে অনেক সময় ছোট সমস্যা বড় হয়ে যেতে পারে।

ভুল স্বীকার করা শুরুতে কঠিন মনে হতে পারে। তারপরও নিজের ভুলের দায়িত্ব নেওয়া জরুরি। এতে মা-বাবার সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়। তাঁরা বুঝতে পারেন, আপনি নিজের কাজের দায় নিতে প্রস্তুত।

মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও খোলামেলা যোগাযোগ। মতের অমিল থাকলেও একে অপরের কথা শোনার অভ্যাস সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!