কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অভিবাসী চিন্তাধারার ‘চশমা’ দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বা নৃবিজ্ঞান বোঝা সম্ভব নয়। ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দ ও ধারণাটি অপ্রাসঙ্গিক।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ‘পাতানো ফাঁদে’ পা দিয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দের নতুন বয়ান তৈরি করা উচিত নয়। যেসব দেশে বহিরাগত অভিবাসীরা এসে মূল অধিবাসীদের সরিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে, সেসব দেশে আদিবাসীদের একটি ঐতিহাসিক ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের প্রতিকারেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশে কোনো বহিরাগত অভিবাসী এসে মূল বাসিন্দাদের তাড়িয়ে জমি দখল করে রাষ্ট্র গঠন করেনি। বাংলাদেশের জনমিতি ও জাতিসত্তা হাজার বছরের নৃবৈজ্ঞানিক বিবর্তনের ধারায় গড়ে উঠেছে। তাই এ দেশে বহিরাগত অভিবাসী ও আদিবাসীর মধ্যে বিরোধের কোনো অবকাশ নেই।
জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক না করার আহ্বান
জাতীয় পরিচয় ও জনমিতি নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক সৃষ্টি করা একধরনের অপকৌশল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা উপস্থাপন করেছিলেন, যা জাতির পরিচয়গত সংকট নিরসনে ভূমিকা রেখেছে।
এই সংহত পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে ‘ভুল বয়ানের’ বিপরীতে সঠিক ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মনোজগৎ দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যাগুলো সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়।
সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও উপস্থিত ছিলেন।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, এমরান সালেহ প্রিন্স, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী মোহাম্মাদ রাশেদ খান।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল, ড. আবদুল হাই সিদ্দিকী, এম আবদুল্লাহ, আবু রুশদ, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল মাহফুজুর রহমান, লে. জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!