নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে সরকার ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারকে উন্নয়নের মূল একক হিসেবে বিবেচনা করে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি করপোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারীপ্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃষকদের জন্য ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখে এর উদ্বোধন হয়েছে। প্রি-পাইলট পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি কৃষিঋণ মওকুফে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার সুফল পাবেন ১৩ লাখের বেশি কৃষক।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদানের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে ভাতা পাঠানো হয়েছে এবং এর পরিধি বাড়ানোর কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য খাতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এ সেবা চালু করা হবে।
পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জানান, জুন মাস পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি খাল খনন বা পুনঃখনন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দেড় কোটি চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।
শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হচ্ছে এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ক্রীড়া খাতে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতা চালুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
আইসিটি খাতে হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার পার্ক কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং দেশে পেপ্যাল সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে। দিনের শুরুতে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংসদ সদস্যরা।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!