রাজধানীর বাজারে প্রায় দুই মাস ধরেই চলছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট। আগে যেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেল সহজেই পাওয়া যেত, এখন সেখানে পরিচিত ব্র্যান্ডের তেলও মিলছে খুব সীমিত পরিমাণে।
এ পরিস্থিতিতে অনেক দোকানি পরিচিত ক্রেতাদের জন্য বোতলজাত তেল লুকিয়ে রাখছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরিচিত ক্রেতাদের কাছে অনেক ক্ষেত্রে তেল না থাকার কথা জানানো হচ্ছে। ফলে খোলা সয়াবিন তেলের ওপর চাপ বেড়েছে এবং দামও বাড়ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগেই খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে তা বেড়ে বেশির ভাগ বাজারে ২১০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বোতলজাত তেল সরকার নির্ধারিত ১৯৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হলেও তা পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। সুপারশপগুলোতেও সরবরাহ অনিয়মিত। কোথাও কোথাও অল্প পরিমাণে তেল এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে তেল নিতে হলে কোম্পানির অন্যান্য পণ্যও কিনতে হচ্ছে। আগের মতো বাকিতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল আনতে বাড়তি খরচও হচ্ছে। এতে তাদের লাভ কমে যাওয়ায় বোতলজাত তেল আনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।
মানিকনগর বাজারের এক বিক্রেতা জানান, খোলা তেলের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা বোতলজাত তেলের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে বাজারে খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় উৎপাদকরা দাম সমন্বয়ের দাবি জানালেও অনুমোদন না পাওয়ায় বোতলজাত তেলের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে সরবরাহ সংকট, বাড়তি খরচ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্য—এই তিন কারণে সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!