দেশের কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করে তুলতেই ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত হলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়া এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পর্যায়ক্রমে ১০ ধরনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে দেশের ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে মোবাইলের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকদের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পুরো দেশের অর্থনীতিই এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে জোর দেওয়া হবে, যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পান।
কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো হলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।
পহেলা বৈশাখ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উৎসবের সঙ্গে কৃষির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কৃষকদের হিসাব-নিকাশ ও নতুন বছরের সূচনার মধ্য দিয়েই এ উৎসবের উৎপত্তি।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহাম্মেদ।
আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন এবং দেশ গঠনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!