চীনের উৎপাদন খাতের কার্যক্রম জুলাই মাসে আবারও সংকোচনের মুখে পড়েছে। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির শিল্প খাত প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল অবস্থান দেখিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্যে দেখা যায়, দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) জুলাইয়ে কমে ৪৯ দশমিক ২-এ নেমেছে। জুনে এ সূচক ছিল ৫০ দশমিক ৩। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের ওপর পরিচালিত ব্লুমবার্গের জরিপে সূচকটি ৫০ দশমিক ১-এ থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
পিএমআই ৫০-এর নিচে নেমে গেলে তা উৎপাদন খাতের সংকোচন নির্দেশ করে। চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনের শিল্প খাত অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তবে ইলেকট্রনিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হার্ডওয়্যারের আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী চাহিদার কারণে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে, যা উৎপাদন খাতকে আংশিক সহায়তা দিয়েছে।
এদিকে সেবা ও নির্মাণ খাতের কার্যক্রম পরিমাপকারী অ-উৎপাদন খাতের পিএমআইও জুলাইয়ে কমে ৪৯ দশমিক ০-এ নেমেছে, যা গত তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়।
এনবিএসের পরিসংখ্যানবিদ হুয়ো লিহুই বলেন, সর্বশেষ সূচক অ-উৎপাদন খাতের কার্যক্রমে গতি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর একদিন আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশের অর্থনীতির সামনে থাকা ‘কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের’ কথা উল্লেখ করে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অভ্যন্তরীণ চাহিদা জোরদার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!