পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও মাঠে নামতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো। আগামী ১৫ নভেম্বর ইতালির তৃতীয় বিভাগের দল রাভেন্নার হয়ে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ফরলির বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে ৪৬ বছর বয়সী এই তারকার।
২০১৫ সালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লামিনেন্সের হয়ে সর্বশেষ পেশাদার ফুটবল খেলেছিলেন রোনালদিনহো। এরপর গত জুনে চমকপ্রদভাবে ইতালির সিরি ‘সি’-এর দল রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। তবে এখনো ক্লাবটির হয়ে কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর।
শুক্রবার রাভেন্না ক্লাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে রোনালদিনহোর অভিষেকের তারিখ ঘোষণা করে। ক্লাবটির আশা, এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর পড়বে ইতালির স্তাদিও ব্রুনো বেনেল্লি স্টেডিয়ামে।
এক বিবৃতিতে রাভেন্না জানায়, ফুটবল বিশ্ব প্রথমে খবরটি বিশ্বাস করতে পারেনি। তবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এক কিংবদন্তির প্রত্যাবর্তন—জাদু, হাসি আর এমন এক প্রতিভার ফিরে আসা, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের সমর্থকদের মুগ্ধ করেছেন।
ক্লাব সভাপতির স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে
রাভেন্না ক্লাবটি পরিচালনা করেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ইগ্নাজিও সিপ্রিয়ানি। ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি যেন ক্লাবটির হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি করেন, সেটিই তাঁর স্বপ্ন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত আগস্টে মৌসুম শুরুর আগে সমুদ্রসৈকতে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমর্থকদের সামনে রোনালদিনহোকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁর মাঠে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন সমর্থকেরা।
ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ামিতে চুক্তির ঘোষণা থেকে শুরু করে মারিনা দি রাভেন্নার সৈকতে সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা—সব মিলিয়ে রোনালদিনহোকে ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে। এবার তাঁর মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখও জানা গেল।
রাভেন্নার ভাষ্য, ক্লাব সভাপতির যে স্বপ্ন সমর্থকদের কল্পনায় আলোড়ন তুলেছে এবং ইতালির সীমানা ছাড়িয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এবার তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বেনেল্লি স্টেডিয়ামে রোনালদিনহোর খেলার মধ্য দিয়ে শুরু হবে নতুন এক অধ্যায়।
বার্সেলোনা থেকে বিশ্বকাপজয়ী তারকা
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা, পিএসজি ও এসি মিলানের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন রোনালদিনহো। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এসি মিলানের হয়ে খেলার পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো ইতালির ফুটবলে ফিরছেন তিনি।
২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন এই তারকা। ২০০৫ সালে তাঁর হাতে ওঠে ব্যক্তিগত ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। অসাধারণ ড্রিবলিং, সৃজনশীল পাস, দৃষ্টিনন্দন কৌশল ও মাঠে হাসিখুশি উপস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিতি রয়েছে তাঁর।
রাভেন্না ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু ফুটবলার তাঁদের জয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকেন, আবার কেউ স্মরণীয় হন তাঁরা মানুষকে কেমন অনুভূতি দিয়েছেন, তার জন্য। রোনালদিনহো সেই বিরল খেলোয়াড়দের একজন, যাঁরা ফুটবলকে নির্মল আনন্দে পরিণত করতে পারেন।
ক্লাবটির মতে, তাঁর অপ্রত্যাশিত কৌশল, সৃজনশীলতা ও হাসি স্টেডিয়াম এবং প্রজন্মের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত ইতালির সিরি ‘সি’-তে নিজেদের গ্রুপে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাভেন্না।
দীর্ঘ বিবৃতির শেষে ক্লাবটি লিখেছে, ‘অপেক্ষার অবসান প্রায়। জাদু আবারও মাঠে ফিরছে।’
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!