যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ AM

১২
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা।

প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপান যান। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিটে বিমানটি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং টোকিওতে বাংলাদেশের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, জাপানে পৌঁছানোর দিনই দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। পরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।

চার দিনের সফরে জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামে’ মূল বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য

সফরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করবে দুই পক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁর কর্মসূচিতে ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।

এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই সফরের সময় বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।’

কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানেও আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

সফরসঙ্গী যারা

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। জাপানের সহায়তায় ঢাকা মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেছিলেন।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!