যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ডে বদলাবে সামাজিক নিরাপত্তা, তৈরি হচ্ছে পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ AM

১৩
ফ্যামিলি কার্ডে বদলাবে সামাজিক নিরাপত্তা, তৈরি হচ্ছে পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার

দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে সরকার। পরিবারের আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করা হবে।

এ তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি সহায়তা বিতরণব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন ও অর্থপ্রদানব্যবস্থায় রূপ নেবে। এতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই তথ্যভিত্তি ব্যবহার করা যাবে। ফলে উপকারভোগী নির্বাচন আরও নির্ভুল হবে এবং সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে ৭০ হাজার ৮৬১টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪১ লাখ পরিবারকে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ১০ অক্টোবর থেকে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বাসসকে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে তথ্যভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করা। সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা যেন যোগ্য পরিবারের কাছে পৌঁছায় এবং সহায়তা থেকে বাদ পড়া দরিদ্র পরিবারগুলোকেও যেন শনাক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিবারের আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্যভাণ্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ হবে তথ্য

পরিবারভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা ট্যাবলেট কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও জীবিকার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করবেন।

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। পরে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলে সংগৃহীত তথ্য কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হবে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে অবস্থানভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারীরা নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে কাজ করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু ভাতা বিতরণের কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটিকে সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধনব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একই তথ্যভিত্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের পর তা স্থির থাকবে না। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।

উপকারভোগী নির্বাচনে গুরুত্ব পাবে আর্থসামাজিক অবস্থা

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সুপারিশের পরিবর্তে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিবারের আয়, সম্পদ, জীবনযাত্রা ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পদ্ধতি বা প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিবারের আয়-ব্যয়, সম্পদ, বাসস্থান ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে স্কোর নির্ধারণ করা হবে। সেই স্কোরের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও দারিদ্র্যের মাত্রা মূল্যায়ন করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব বলেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের নির্ভুলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে কিছু বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি সম্প্রসারণের আগে সেগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাইলট প্রকল্পে যেসব সমস্যা চিহ্নিত

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সহায়তার অর্থ বিতরণে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভুল, উপকারভোগীর নিজের নামে মোবাইল নম্বর না থাকা এবং ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক হিসাবসংক্রান্ত কিছু সমস্যা দেখা গেছে। জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু ভাতা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। ব্যাংক ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার সঙ্গে এ ব্যবস্থাকে যুক্ত করে সরকারি অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমবে এবং অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

সহায়তার প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া সহায়তা পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান ও জীবিকার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রভাব সমীক্ষার মাধ্যমে কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উপকারভোগী শনাক্তকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও অর্থ বিতরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!