যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার অনুমোদন

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:২১ AM

১১
জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার অনুমোদন

অনলাইন ও অফলাইনে জুয়া কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, বাজি ধরা, বুকমেকিং, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ জুয়াসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়কে আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে জুয়ার বিস্তার ঘটেছে। এর ফলে জনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ বাস্তবতায় ঔপনিবেশিক আমলের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ হালনাগাদ করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খসড়া আইনে জুয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পৃথক সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভা খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

একই বৈঠকে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। সংশোধিত আইনে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং কিংবা অবৈধ পরিবর্তনকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা জালিয়াতির ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পূর্বে অনুমোদিত বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পথ সুগম হবে বলে সরকার মনে করছে।

এ ছাড়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন, সাইবার স্পেসে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে নতুন বিধান, সীমান্ত এলাকায় পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা এবং মাদক শনাক্তে ডগ স্কোয়াড গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!