ধূমপানকে সাধারণত ফুসফুসের রোগের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হলেও চিকিৎসকরা বলছেন, এর ক্ষতি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং পুরো শরীরজুড়েই ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপায়ী ব্যক্তির পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানেও (প্যাসিভ স্মোকিং) একই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিবারের শিশু, গর্ভবতী নারী বা বয়স্ক সদস্যরা নিয়মিত ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে তাদের মধ্যেও ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০টিরও বেশি ক্যানসার-সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এই বিষাক্ত উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে শুধু ফুসফুস নয়—একাধিক অঙ্গ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপানের কারণে শরীরের কোষের স্বাভাবিক গঠন ও প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, মূত্রথলির ক্যানসারের ঝুঁকিও ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ সিগারেটের ক্ষতিকর উপাদান কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে এসে মূত্রথলির ভেতরের অংশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
দেশে মুখ ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ। ধূমপানের পাশাপাশি গুটখা, জর্দা ও অন্যান্য ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। এতে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসেও জটিলতা দেখা দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়লে শরীর ধীরে ধীরে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায় এবং সময়ের সঙ্গে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ও রক্তসঞ্চালন উন্নত হয়।
ধূমপান ছাড়াকে সহজ নয় বলে উল্লেখ করে চিকিৎসকরা কাউন্সেলিং, নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাদের মতে, ধূমপান এখন আর শুধু ফুসফুসের রোগ নয়—এটি পুরো শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আঘাত, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!