যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৮ জুন ২০২৬, রবিবার ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

উৎপাদন খরচের চাপে মৌলভীবাজারের চা শিল্প

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ AM

২৬
উৎপাদন খরচের চাপে মৌলভীবাজারের চা শিল্প

প্রায় ১৭০ বছরের পুরোনো বাংলাদেশের চা শিল্প এখন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির চাপে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তেল, সার, কীটনাশক, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন বাড়লেও লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগান দিয়ে বাণিজ্যিক চা উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ১৬৮টি চা বাগানে চা উৎপাদন চলছে। তবে সময়ের সঙ্গে উৎপাদন আধুনিকায়ন হলেও ব্যয়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

বাগান মালিক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২২ সালে শ্রমিক আন্দোলনের পর দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়। বর্তমানে তা ১৭৮ টাকার ওপরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, সার-কীটনাশক ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে।

চা বাগান কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক বাগানই এখন আর সহজে ব্যাংক ঋণ পাচ্ছে না। আগের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা বা লোকসানে থাকায় নতুন ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বাগান পরিচালনায় আর্থিক সংকট আরও বাড়ছে।

চা শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। পাশাপাশি সময়মতো বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে ৯ থেকে ১০ কোটি কেজির মধ্যে ওঠানামা করেছে। ২০২৬ সালে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪ মিলিয়ন কেজি।

অন্যদিকে, নিলামে চায়ের গড় মূল্য বাড়লেও উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। ২০২৫–২৬ সালে গড় মূল্য ২৪৫ টাকার ওপরে উঠলেও লাভজনকতা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে।

চা শ্রমিক ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, ন্যায্য মজুরি ও নিয়মিত বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে চাপ তৈরি হচ্ছে।

চাতলাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, “উৎপাদন বাড়লেও খরচ এত বেশি যে অনেক বাগান টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। মান বজায় রেখে উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ ছাড়া ক্ষতি কমানো কঠিন।”

বাংলাদেশ চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (পরিকল্পনা) সুমন সিকদার জানান, ২০২৬ সালে উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে কাজ চলছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলের আশা রয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পোকামাকড় ও পরিবহন ব্যয়—সবই শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!