বাংলাদেশের বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। এটি শুধু একটি ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়; বরং প্রায় এক দশক ধরে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, ধৈর্য এবং সম্পর্কের গল্প।
কালান্দার্স ও মুস্তাফিজুর সম্পর্কের শুরু পিএসএল-এর প্রথম ড্রাফট পর্যন্ত। তখন মুস্তাফিজ একজন তরুণ বোলার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও লাহোরের গোল্ড ক্যাটাগরিতে প্রথম পছন্দ হিসেবে তাকে নির্বাচন করা হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র না থাকার কারণে তিনি তখন দলে যোগ দিতে পারেননি। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে আগ্রহ ও সম্মান অটুট ছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে মুস্তাফিজ বিশ্বজুড়ে তার দক্ষতার জন্য পরিচিতি পান।
২০১৮ সালে তিনি পুনরায় লাহোর কালান্দার্সে যোগ দেন এবং পাঁচটি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর কিছু বছর পিএসএল-এ অংশ নেননি।
সাম্প্রতিক অধ্যায় শুরু হয় ৪ জানুয়ারি, যখন মুস্তাফিজ আইপিএলের জন্য নিবন্ধন করার পর তার ম্যানেজার লাহোরের সামিন রানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইতিবাচক সাড়া দিয়ে লাহোর তাকে আবারো দলে অন্তর্ভুক্ত করে। সামিন রানা বলেন, “ফ্র্যাঞ্চাইজি সবসময় তাকে একজন ‘কালান্দার’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।”
এই চুক্তি আসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে, যখন বাংলাদেশের ক্রিকেট কিছুটা হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড় ও দেশের ক্রিকেটের প্রতি এক ধরণের সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।
লাহোর ও মুস্তাফিজের এই সম্পর্ক দেখায়, কীভাবে বছরগুলো ধরে ক্রিকেটের সম্পর্কগুলো বিকশিত হতে পারে। দশ বছর আগে একজন তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যে যে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, আজ সেই বিশ্বাস নতুন রূপে পুনর্জীবিত হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!