পানি শরীরের জন্য অপরিহার্য। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করলে তা কখনো কখনো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। বিশেষ করে অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশন বলা হয়। এতে শরীরের কোষে অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করে কোষ ফুলে যেতে পারে। মস্তিষ্কে এমনটি ঘটলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসাবিষয়ক তথ্যভান্ডার StatPearls–এর তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে হাইপোন্যাট্রেমিয়া অন্যতম সাধারণ ইলেকট্রোলাইটজনিত সমস্যা। অতিরিক্ত পানি পান ছাড়াও কিছু ওষুধ, দীর্ঘসময় বমি বা ডায়রিয়া এবং হৃদ্যন্ত্র বা লিভারের কিছু রোগও এর কারণ হতে পারে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
হাইপোন্যাট্রেমিয়ার লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে দেখা দেয়। শুরুতে থাকতে পারে—
বমি বমি ভাব
মাথাব্যথা
পেট ফাঁপা
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
ঘন ঘন প্রস্রাব
মনোযোগে ঘাটতি বা বিভ্রান্তি
অবস্থা গুরুতর হলে দেখা দিতে পারে—
বমি
পেশিতে খিঁচুনি
কথা বলতে অসুবিধা
খিঁচুনি
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত পানি পানের কারণে এমন জটিলতা খুবই বিরল। তবে শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পানি পান করা বা অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি গ্রহণের অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সুস্থ থাকতে তৃষ্ণা, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!