হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা নাক ও গলায় থাকা ভাইরাসের কারণে হয়। হামের ফলে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এবং কখনো কখনো মৃত্যুও ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
হামের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে দ্রুত শনাক্ত ও সঠিক সাবধানতা নিলে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।
হাম কীভাবে ছড়ায়:
সংক্রমিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি করলে ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়। টিকা না নেওয়া হলে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংক্রমিত হতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই ঘরে থাকা বা সংস্পর্শে আসলেও হাম হতে পারে, এমনকি তারা স্থান ত্যাগ করার দুই ঘণ্টা পরও ভাইরাস সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
হামের লক্ষণ:
উচ্চ জ্বর (১০১°–১০৪° ফারেনহাইট বা তার বেশি)
কাশি
নাক দিয়ে পানি পড়া
চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট)
লাল র্যাশ, যা সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শরীরের বাকি অংশে ছড়ায়
হাম হলে করণীয়:
অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
জরুরি বিভাগ বা হাসপাতালে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া যাবেন না, যাতে অন্যদের সংক্রমণ না হয়।
সাবধানতা ও প্রতিরোধ:
মাস্ক পরুন, যাতে সংক্রমণ ছড়ানো না হয়।
কাশি বা হাঁচি হলে মুখ ও নাক টিস্যু বা কনুই দিয়ে ঢাকুন; ব্যবহৃত টিস্যুটি ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
খাবার, পানীয় এবং বাসনপত্র ভাগাভাগি ব্যবহার করবেন না।
ঘন ঘন স্পর্শ করা পৃষ্ঠতল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জীবাণুমুক্ত করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সঠিক নিরাপত্তা বিধি মেনে চললে হাম সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সকলের সতর্ক থাকা জরুরি।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!