দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত (অ্যাক্রেডিটেড) ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি গড়ে উঠলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্ভোগ কমবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, এতে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) আয়োজিত এক নীতি-নির্ধারণী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যান। কিন্তু দেশের বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক ল্যাবের পরীক্ষার ফল আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় বিদেশে গিয়ে রোগীদের একই পরীক্ষা আবার করাতে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয় ও সময়—দুটিই বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দেশেই সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে বিদেশে চিকিৎসা নিতে গেলেও পুনরায় একই পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসবে।
বর্তমানে দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক ল্যাব থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি রয়েছে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটির। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুরুতেই কঠোর আইন প্রয়োগের পরিবর্তে ল্যাবের মালিক ও পরিচালকদের সচেতন করে তুলতে হবে। তারা যদি বুঝতে পারেন যে মানসম্পন্ন সেবা মানুষের আস্থা ও ব্যবসা—দুই-ই বাড়ায়, তাহলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে আগ্রহী হবেন।
স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। খাদ্যে ভেজাল রোধ, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের মতো জটিল রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব হবে না।
সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!