চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
সোমবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।
গত বছরের তুলনায় কমেছে পাসের হার
এবারের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই গত বছরের তুলনায় কমেছে।
২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
৯ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৮১৪ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৩ হাজার ৭৯৬ জন। এই নয় বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে ফল
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। পাস করেছে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।
পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন।
অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন।
যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ ৩ হাজার ৮৩৬ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনটি গ্রুপের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি।
বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন। এ বিভাগের পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পাস করেছে ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
যেভাবে ফল পাওয়া যাচ্ছে
সোমবার সকাল ১০টা থেকে একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
ফল প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!