প্রাথমিক স্তর থেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তুলে বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, অঙ্কভীতি দূর করে খেলার মাধ্যমে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা একটি জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, আনন্দময় ও বিজ্ঞানভিত্তিক করতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার সঙ্গে পরিচিত করতে স্টেমভিত্তিক শিক্ষা এবং প্লে-বেইজড লার্নিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে। জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের জন্য এ হার পর্যাপ্ত নয়। তাই প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা বেছে নিতে পারে।
তিনি বলেন, ব্র্যাক, লেগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর বাস্তবায়িত প্লে-বেইজড শিক্ষা কার্যক্রম সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। এসব উদ্যোগের সফলতা মূল্যায়ন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্লে-ল্যাব ও স্টেম ল্যাব চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকশ বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, সরকারি, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম শিক্ষার মান নির্ধারণে কাজ করছে সরকার। শিক্ষক, পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো ও শিক্ষার গুণগত মানে জাতীয় মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাষা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে শিক্ষা সংস্কার, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, প্লে-বেইজড লার্নিং এবং স্টেমভিত্তিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!