বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার ওপর আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনগত মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে ভোলার উপকূলজুড়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকা হাজারো জেলে, ফিশিংবোট মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে এখন গভীর সাগরে ফেরার প্রস্তুতি চলছে।
ভোলা জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন বৃদ্ধি এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের সুরক্ষার লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল দিনগত মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। আজ মধ্যরাতে তা শেষ হচ্ছে।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন। এর বাইরে আরও প্রায় এক লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই জেলার বিভিন্ন ঘাটে জেলে ও বোট মালিকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। কেউ জাল ও ট্রলার মেরামত করছেন, কেউ আবার গভীর সাগরে যাত্রার জন্য ৫ থেকে ১০ দিনের খাদ্যসামগ্রী, বরফ ও জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন।
দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল এলাকায় দেখা গেছে, মেঘনা নদীর তীরে বোট ও মাঝিদের ভিড়। অনেকেই ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সাগরমুখী হয়েছেন। জেলেরা আশা করছেন, এবারের মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ পেলে গত দুই মাসের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়কালজুড়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ও অর্থসংকটে কেটেছে তাদের অনেকের। সরকারের দেওয়া সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জেলে মো. মিরাজ বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা দুই মাস কাজ করতে পারিনি। এখন আবার সাগরে যাচ্ছি। যদি মাছ ভালো পাওয়া যায়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।”
একই ধরনের প্রত্যাশার কথা জানান অন্য জেলেরা। তাদের আশা, ৫–১০ দিনের ট্রিপে ভালো মাছ পেলে পরিবার ও বোট মালিকদের লোকসান কিছুটা হলেও কমবে।
এদিকে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলার প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের মৌসুমে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাবেন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!