গরম আবহাওয়ায় শিশুদের ডায়রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ সময় খাবার ও পানিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দ্রুত বংশবিস্তার করে, ফলে পেটের সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া কয়েক দিনের মধ্যে সেরে গেলেও শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে, যা সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিল হতে পারে। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি জরুরি।
কারণ কী
গরমে খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, বাইরে খাওয়াদাওয়া, দূষিত পানি ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব—এসব কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। রোটাভাইরাস ও নোরোভাইরাসের পাশাপাশি ই-কোলাই ও সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়াও ডায়রিয়ার সাধারণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
ঘরোয়া যত্ন ও করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়রিয়ার সময় শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- শিশুর বয়স অনুযায়ী ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস/ওরস্যালাইন) নিয়মিত দিতে হবে
- বমি থাকলে অল্প অল্প করে বারবার তরল খাওয়াতে হবে
- বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ চালিয়ে যেতে হবে
- বড় শিশুদের ক্ষেত্রে পানি, ডাবের পানি বা হালকা স্যুপ দেওয়া যেতে পারে
- কার্বনেটেড পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলা উচিত
খাওয়াদাওয়া বন্ধ না রাখার পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, ডায়রিয়ার সময় শিশুকে না খাইয়ে রাখা ঠিক নয়। সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, খিচুড়ি, কলা ও দই (সহ্য হলে) খাওয়ালে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া বা প্রস্রাব কমে যাওয়া
- বারবার বমি
- মলে রক্ত বা শ্লেষ্মা
- উচ্চ জ্বর
- তীব্র পেটব্যথা
- ৪৮–৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ডায়রিয়া চলা
- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব
- ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ডায়রিয়া হলে
প্রতিরোধে করণীয়
- নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা
- নিরাপদ ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা
- ঘরে রান্না করা টাটকা খাবার খাওয়ানো
- ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
- খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা
গরমের এই সময়ে সামান্য অসতর্কতাই শিশুর জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমনটাই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!