যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার ১৪ চৈত্র ১৪৩২

মহান স্বাধীনতা দিবসে আইইবি’র শ্রদ্ধা, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৭ AM

মহান স্বাধীনতা দিবসে আইইবি’র শ্রদ্ধা, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।

সকালে আইইবি সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন আইইবি’র সভাপতি। এসময় আইইবি’র সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করা হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর আইইবি প্রাঙ্গণে একটি প্রতীকী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় আইইবি নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
এরপর আইইবি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সেনানীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে আইইবি’র পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আইইবি সভাপতি বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষায় সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শিল্পায়নে প্রকৌশলীদের অবদান আরও জোরদার করতে হবে।”
আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রকৌশলীদের দক্ষতা ও সততা বজায় রাখতে হবে। একটি আধুনিক, টেকসই ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রকৌশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, আইইবি’র কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকৌশলীবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সদস্য।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা বলেন, স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অপরিহার্য।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আইইবি সদর দপ্তরে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়, যেখানে বক্তারা স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতীয় উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
আইইবি নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, মহান স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত নৈতিকতায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!