যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার ১৯ মাঘ ১৪৩২

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন: নাহিদ ইসলাম

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৫ AM

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করা হলেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কারের লড়াই থেকে দলটি সরে আসেনি। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ভেতরে থেকেই সংস্কার বাস্তবায়ন করাই এনসিপির মূল লক্ষ্য।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছে। এই দল গঠনের পেছনে যে প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্র ছিল, তা থেকেই তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আমাদের নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে এবং আমাদের চিন্তা–আদর্শের শিকড়ও সেখানেই।’ তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার দাবি থেকেই এনসিপির রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়েছিল এবং দেশের জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছিল। সেই বাস্তবতায় জুলাইয়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে এমন একটি নতুন বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে হবে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জোট করেছি বলে আমাদের লক্ষ্য বদলে যায়নি। নতুন বন্দোবস্তের যে দাবি নিয়ে আমরা রাজনীতিতে নেমেছিলাম, এখনো সেই দাবিতেই অটল আছি।’ জোট গঠন নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও এটি মূলত একটি নির্বাচনী জোট বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দলটি সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করলেও প্রত্যাশিত সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। ফলে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টিকে এখন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখছে দলটি। নির্বাচনের মাধ্যমে গণভোটের মধ্য দিয়েই এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় জোটের মধ্যে ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে এবং এই জোটের মাধ্যমে এনসিপি তাদের সংস্কার দাবিকে এগিয়ে নিতে চায়। এ কারণেই দলটি আলাদাভাবে নিজস্ব ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে। এই তরুণ প্রজন্মকে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় কাজে লাগানোই এনসিপির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নাগরিক মর্যাদা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নও দলটির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, তারুণ্য ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। জোট সরকার গঠিত হলে মন্ত্রিসভা ও সংসদে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা এই ইশতেহারে স্পষ্ট করে চিহ্নিত করা হয়েছে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!