যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার ১৯ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কা করছেন মির্জা আব্বাস

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৭ AM

নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কা করছেন মির্জা আব্বাস

ঢাকা–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে দেশের মানুষ ভোটাধিকার অর্জন করেছে।

এই অধিকার প্রয়োগে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি। পরে কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড ও পিজি হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন মির্জা আব্বাস।

সভায় তিনি বলেন, ডাক্তার, নার্স, রাজনীতিবিদ কিংবা কুলি-মজুর—যেই হোক না কেন, ভোট দেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব সবার রয়েছে। সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এই অধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, সেবার ভোট শেষে পোলিং এজেন্টরা সন্ধ্যার মধ্যেই ফলাফল নিয়ে ফিরতেন। অথচ এখন বলা হচ্ছে ফল পেতে দুই-তিন দিন সময় লাগবে। এটিকে সম্ভাব্য কারচুপির লক্ষণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা এখনো আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা অথবা নির্বাচন হলে যাতে বিএনপি জয়ী না হতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা।

এ সময় দেশের বাইরে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কেউ কেউ বিদেশে বসে নিজেদের দেশপ্রেমিক দাবি করেন। অথচ দেশের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে দেশে ফিরে এসে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও জনগণের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, তারা বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, কিছু লোক সারাদিন রাজনৈতিক নেতাদের নাম নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য ছড়িয়ে বেড়ায়। অথচ তারা দাবি করে, তারা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছে। তিনি বলেন, মাদ্রাসা মানুষকে সত্য ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, মিথ্যা বা গীবত শেখায় না।

নির্বাচনী প্রচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট চাইতে হলে প্রার্থীকে নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে হবে। অন্যের বিরুদ্ধে অপবাদ বা কুৎসা রটিয়ে ভোট চাওয়া অনৈতিক ও অপ্রয়োজনীয়।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি অন্তত পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কখনোই অন্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি; সবসময় নিজের কাজ ও পরিকল্পনার কথাই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, তাঁর উদ্যোগে ঢাকায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দুটি হাসপাতাল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কর্মসংস্থান, খেলার মাঠ, কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। এসব কাজের বিবরণ লিফলেটে তুলে ধরা হয়েছে।

ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ তাকে ভোট দিক বা না দিক—মানুষ ভোট দিতে পারছে, এটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অপপ্রচারের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!