যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার ১৯ মাঘ ১৪৩২

আপনাদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব—ব্যবসায়ীদের বললেন জামায়াত আমির

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৬ AM

আপনাদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব—ব্যবসায়ীদের বললেন জামায়াত আমির

ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। তাই ব্যবসা ও শিল্পখাতকে শিশুর মতো যত্ন ও সুরক্ষা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ব্যবসায়ীদের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি এবং লাল ফিতার জটিলতা। এসব কারণে উদ্যোক্তারা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ভবিষ্যতে সরকার গঠন করতে পারলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হবে। সম্মানের সঙ্গে কেউ সেই অর্থ ফেরত দিলে রাষ্ট্র তার প্রতি আরও সম্মান প্রদর্শন করবে। এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়; বরং দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা করা।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পাশে বসে সেই যাত্রা উপভোগ করতে চাই।

ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দুই খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি যে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটির একটি ব্রোকারেজ হাউসও ছিল। সে সুবাদে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজার—দুই খাতই কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর মতে, একসময় দেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো থাকলেও পরবর্তীকালে একের পর এক সংকটে পড়ে ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখলেও সবাই উদ্যোক্তা নন। সেই আমানতের অর্থ তুলে দেওয়া হয় অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের হাতে, যারা তা বাণিজ্য ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ করেন। তাই এই খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিনটি খাতকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মেধা, দক্ষতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কোনো ব্যবসাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

ব্যবসায়িক সফলতার জন্য চারটি বিষয়কে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ নিয়ত, সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে জ্ঞান, সংকটে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং সরাসরি কাজে যুক্ত থাকা—এই চারটি গুণ একজন উদ্যোক্তার মধ্যে থাকতে হবে।

তিনি জানান, দেশের শীর্ষ ২৭ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে করা এক জরিপে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে ২১ জনেরই উত্তরাধিকারসূত্রে কোনো পুঁজি ছিল না। ক্ষুদ্র পুঁজি, সততা ও সাহস নিয়েই তাঁরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।

নিজের প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো কর্মকর্তা ভুল করলে তিনি কখনোই সবার সামনে অপমান করেননি। আলাদাভাবে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন। নারীদের ক্ষেত্রে শালীনতার বিষয়টি বজায় রেখে কথা বলার কথা জানান তিনি।

নারীদের সম্মান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সমাজে মায়েদের মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষ দ্রুত ফল পেতে চায় বলেই অনেক ক্ষেত্রে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং নারীদের কর্মক্ষেত্র নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি জন্ম নেয়।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!