বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের যুবসমাজ কখনো ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে কাজ ও কর্মসংস্থান। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ধর্ম ও জেন্ডার নির্বিশেষে ইনসাফের ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা–১৫ আসনের মহিলা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থানের উদ্যোগ না নিয়ে শুধু বেকার ভাতা দেওয়াকে জামায়াতে ইসলামী যুবসমাজের জন্য অসম্মানজনক মনে করে। তিনি বলেন, যুবকেরা কখনো মিছিল করে ভাতা চায়নি—তারা চেয়েছে কাজ। জামায়াতে ইসলামী তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চায়, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে নারীরা সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবেন। বড় শহরগুলোতে নারীদের জন্য আলাদা বাস ও পিক আওয়ারে বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কর্মস্থলে বেবি কেয়ার, ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নারের ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি বলেন, সন্তান লালন-পালনের সময় অনেক মা কর্মক্ষেত্র ছাড়তে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে মায়েদের জন্য পাঁচ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সহায়ক কাঠামো গড়ে তোলা হলে তারা কর্মক্ষেত্রে যুক্ত থাকতে পারবেন। তবে কেউ চাইলে আট ঘণ্টা কাজ করার সুযোগও থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারী, শিশু ও মায়েদের বাদ দিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। সমাজে সুবিচার কায়েম করাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ব্যক্তি বা দলের বিজয় চায় না, চায় দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য।
যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেকার ভাতার পরিবর্তে যুবকদের ভাষাগত দক্ষতা (বাংলা, ইংরেজি, আরবি) এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে।
নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। তিনি এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির ও ঢাকা–১৫ আসনের আসন পরিচালক আবদুর রহমান মুসাসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!