যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার ১৯ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশনা

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৬ AM

১৩
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশনা

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন ও গণভোটে ইসিতে নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার পক্ষ থেকে এসব পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশন জানায়, অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যায়ে সংসদীয় আসনভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ কার্যকর থাকবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই কেবল ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে কমিশন অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা–২০২৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন একটি অনলাইন পোর্টাল (https://pr.ecs.gov.bd/
) চালু করেছে। অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার সব পর্যবেক্ষককে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই পোর্টালে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যবেক্ষকেরা অনলাইন থেকেই পরিচয়পত্র ও স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে পারবেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে ইস্যু করা হবে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের আবেদন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তাঁর মনোনীত কর্মকর্তারা অনুমোদন দেবেন। রিটার্নিং অফিসারদের ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যে পোর্টালে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সময় পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র সার্বক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান অবস্থায় পরিধান করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের সময় ভোটারের ভোটাধিকার এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিঘ্ন যেন না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যবেক্ষকেরা কোনোভাবেই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

নির্দেশনায় বলা হয়, পর্যবেক্ষকেরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কেবল এমন স্থানে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করতে পারবেন, যেখানে নির্বাচন পরিচালনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না। তবে কোনো অবস্থাতেই ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, কোনো স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হলে কিংবা অন্য কোনো পর্যবেক্ষকের অসঙ্গত আচরণ চোখে পড়লে তা নিজ নিজ সংস্থাকে অবহিত করতে হবে। সংবিধান এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধান পুরোপুরি মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ, কোনো নির্বাচনি উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোনো পর্যবেক্ষক যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা কোনো প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হন, তাহলে তিনি পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালনের যোগ্য হবেন না।

এ ছাড়া পর্যবেক্ষণের পুরো সময়জুড়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ইঙ্গিতবাহী পোশাক, প্রতীক বা পরিচয় বহন করা যাবে না। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে উপহার বা কোনো সুবিধা গ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে নির্বাচন চলাকালীন গণমাধ্যমের সামনে এমন কোনো মন্তব্য না করতেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা ব্যাহত করতে পারে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!