জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান–এর ১০৭তম জন্মদিন আজ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়া–এ জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। শৈশবে ‘খোকা’ নামে পরিচিত এই শিশুটিই পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির মুক্তির অগ্রদূত।
গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শেখ মুজিবুর রহমান ছোটবেলা থেকেই সমাজের বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতির পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তার মধ্যে গড়ে ওঠে অসাম্প্রদায়িক চেতনা। কিশোর বয়সেই রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি।
গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল–এ অধ্যয়নকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পথচলা।
বঙ্গবন্ধু সারাজীবন এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। পাকিস্তান আমলে তিনি প্রায় ১৪ বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দান–এ ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। তার সেই আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
একই বছরের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ রাষ্ট্র।
তবে স্বাধীনতার চার বছর পর, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!