কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ সহ মোট ছয়টি অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে; শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক, ডিজিটাল ও অনলাইনে করা জেন্ডারভিত্তিক অপমানজনক আচরণ অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ‘অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি’ গঠন করতে হবে, যা অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও শাস্তি সুপারিশ করবে। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ এবং প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতন অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত অস্থায়ী বা স্থায়ী সুরক্ষা আদেশ জারি করতে পারবে। অভিযোগ গ্রহণের ৭ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা বাধ্যতামূলক।
প্রেস উইং জানায়, যেখানে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কমিটি গঠিত হবে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!