যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার ১৯ মাঘ ১৪৩২

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৩ AM

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্টস-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী হলে ইউনূস সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে। এই দাবির পক্ষে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ডও প্রচার করা হচ্ছে, যার শিরোনাম ছিল—‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’

এই দাবির ব্যাখ্যায় প্রেস উইং জানায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ আসলে বলেছেন, গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং সরকার গঠন করবেন। একই সঙ্গে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের জন্য আলাদা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। বরং এই দায়িত্ব পালন করবেন পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

এ ছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর উল্লেখ করে প্রেস উইং জানায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে আগামী সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষদের কার্যক্রম শেষ হবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের কাজ করবেন। তবে এর কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই। সংস্কার কার্যক্রম শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!