যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ৩১ মে ২০২৬, রবিবার ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মোবাইল খাতে কর সংস্কারে ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের সম্ভাবনা

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৬:২০ AM

১৮
মোবাইল খাতে কর সংস্কারে ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের সম্ভাবনা

মোবাইল সংযোগ খাতে কর সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রাজস্ব অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।

ইউরোপভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Frontier Economics–এর ‘বাংলাদেশ ক্যান ইনক্রিজ ইকোনমিক গ্রোথ বাই লোয়ারিং ব্যারিয়ার্স টু ডিজিটাল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, মোবাইল খাতে করের চাপ কমানো গেলে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ, ডেটা ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা বাড়বে। এর ফলে মাথাপিছু জিডিপির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে উচ্চ করহার ও ফি মোবাইল খাতে বড় চাপ তৈরি করছে। অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ বিভিন্ন কর ও ফি–তে ব্যয় হয়।

এর মধ্যে রয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১ শতাংশ সারচার্জ, রাজস্ব অংশীদারিত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে অবদান। পাশাপাশি নতুন গ্রাহকদের জন্য ৩০০ টাকার সিম করও একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মোবাইল অপারেটরদের করপোরেট করহার ৪০–৪৫ শতাংশ পর্যন্ত, যা অনেক খাতের তুলনায় বেশি।

প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামোয় সম্পূরক শুল্ক ও রাজস্ব অংশীদারিত্ব কমিয়ে সম্মিলিত করহার ২৩ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে টার্নওভার কর ও সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ড বাতিল এবং সিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংস্কার বাস্তবায়ন হলে প্রাথমিক পর্যায়ে রাজস্ব কিছুটা কমতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ২০২৭ সালে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৭৬১ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

তবে দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে গবেষণায় আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে খাতে আর্থিক ভারসাম্য অর্জিত হবে এবং এরপর রাজস্ব ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরবে।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংস্কার কার্যকর হলে ২০৩৪ সাল নাগাদ বর্তমান কাঠামোর তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার নিট রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ শুধু রাজস্বই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ই-কমার্সসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য একটি কার্যকর আর্থিক রূপান্তর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!